1. khaircox10@gmail.com : admin :
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক সিন্ডিকেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা আত্মসাৎ - coxsbazartimes24.com
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিআইডব্লিউটিএ অফিস সংলগ্ন নালা দখল করে মাটি ভরাট ফাসিয়াখালী মাদরাসার দাতা সদস্য পদে জালিয়াতি! প্রকাশিত সংবাদে পাহাড়তলীর আবদুর রহমানের প্রতিবাদ কক্সবাজার হজ কাফেলার উদ্যোগে হজ ও ওমরাহ কর্মশালা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে কক্সবাজারে ছাত্রলীগের ইফতার বিতরণ রোহিঙ্গা রেসপন্সে বিশ্বব্যাংকের ঋণকে প্রত্যাখ্যান করেছে অধিকার-ভিত্তিক সুশীল সমাজ হযরত হাফসা (রাঃ) মহিলা হিফজ ও হযরত ওমর (রাঃ) হিফজ মাদ্রাসার দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান নারী দিবসের অঙ্গীকার, গড়বো সমাজ সমতার – স্লোগানে মুখরিত কক্সবাজার প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে পেশকার পাড়ার ফরিদুল আলমের প্রতিবাদ কক্সবাজারে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবস পালন

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক সিন্ডিকেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা আত্মসাৎ

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৯৫ বার ভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজের জমি নয়। পরের জমি দখল করে গড়েছে বসতবাড়ি ও আবাসিক কটেজ। গিলে খাচ্ছে বনের জমি। নিজের জমি না হয়েও একে একে চুক্তি করেছে ৬ জনের সঙ্গে। অফিস, কপি হাউজ, বিউটি পার্লার ইত্যাদি করে দেয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে ৮২ লাখ টাকা। চুক্তিনামা থেকেও ভাড়াটিয়ারা এখন অসহায়।
তাতে শেষ নয়। হোটেল মোটেল জোনে অপরাধ সংঘটন ও নিয়ন্ত্রণে গড়ে উঠেছে পারিবারিক সিন্ডিকেট। ইয়াবা, মাদক, পতিতা ব্যবসাসহ নানা অভিযোগও রয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা হলেন- পর্যটন শহরের সৈকতপাড়ার জোবাইদা ইয়াছমিন প্রকাশ মক্কি রানী, তার স্বামী জমিরুল কাদের ও ছেলে নোমানুল হক সাজিম। এদের ব্যাপারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কাছে প্রচুর তথ্য সংরক্ষিত আছে। রয়েছে অনেক মামলা। এই চিহ্নিত অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে ভুক্তভোগিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছে। গত ২৮ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী আকবর চৌধুরী নামক ভুক্তভোগি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠান। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি।
ভুক্তভোগি মোহাম্মদ আলী আকবর চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এওচিয়া ৫ নং ওয়ার্ডের দেওদিঘরি বাসিন্দা। তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী।
তার অভিযোগ, সাজিম সন্ত্রাসীদের গ্রুপ লিডার। তার পিতা জমিরুল কাদের ও মা জোবাইদা ইয়াছমিন প্রতারণাপূর্বক অনেক মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে। অনেককে পথে বসিয়েছে।
একইভাবে দখলবাজচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডে সৈকতপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ ছালে আহমদ সামাদ।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, জোবাইদা ইয়াছমিন প্রকাশ মক্কি রানী তার আপন শালি। ১৯৯৭ সালে নিজের নির্মাণাধীন ঘরে পুরো পরিবারকে স্থান দেন। দুঃসময়ে আশ্রয় দিয়ে এখন তারা জমি দখল করে আছে। উচিত মূল্য দিবে বলে দেয় না। উল্টো মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করছে।
মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ ছালে আহমদ সামাদ জানান, ১৯৬১ সালে ঝিলংজা মৌজার আরএস মূলে তিনি ১ একর জমি কিনেন। যার দলিল নং-৬৪৭৮/৬২। বিরোধী জমির পরিমাণ ৮ শতক, যার বর্তমান অনুমান মূল্য ১ কোটি টাকা। ১৯৯৭ সালে হাবিবুর রহমান নামক ব্যক্তির নিকট এই জমি কিনেন ছালে আহমদ সামাদ। হাবীবুর রহমান বিক্রি অস্বীকার করে ২০১৪ সালে আদালতে মামলা করেন। যা ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর খারিজ করে দেয় আদালত। সে হিসেবে ওই জমির বৈধ মালিক ছালে আহমদ সামাদ বহাল আছেন। কিন্তু দখলবাজদের কবল থেকে নিজের ক্রয়কৃত জমি এখনো উদ্ধার করতে পারেননি দেশের জন্য যুদ্ধ করা এই ব্যক্তি। অধিকারের জন্য ঘুরতে হচ্ছে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ছোট হতে হচ্ছে অনেক জায়গায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালে আহমদ সামাদের অভিযোগ, জঘন্য অপরাধ করেও বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে সাজিম ও তার সিন্ডিকেট। সাজিম, তার মাসহ পুরো সিন্ডিকের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। একা সাজিমের নামে রয়েছে ডজনাধিক মামলা। তাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলার সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- মহেশখালী থানার জিআর-৫৫, জিআর-২১/০৮, জিআর-৩০৭, জিআর- ১৮/০৮, জিআর-১২৭/০৮, সদর থানার জিআর-২৮৭, জিআর-২৮৫, জিআর-২৭০, ৩৮২/০৯, এএফআর নং-৬১/৪৯৪ (২০১৮), ৬২/৮৯৫ (২০১৮), ১১ (২০০৮), ০৮ (২০০৮), জিআর-৩৮৫/০৮, জিআর-৩৮২/০৮, জিআর-৬৬৪/১১, জিআর-৬৮০/১১, জিআর-৮৪১/০৮ (চট্টগ্রাম কুতোয়ালী), সদর মডেল থানার এএফআর নং-১১ (২০১১), ৫৭ (২০১০), পেকুয়া থানার জিআর-৩২/০৯, মহেশখালী থানার নন জিআর-৬০/০৭, ৫৭/০৮, ৬১/০৮, সদর থানার নন জিআর-২২৯/১১, বান্দরবান থানার জিআর-৩২৮/১৬, জিআর-৯৭/১১।
ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগিদের মধ্যে রয়েছেন- শহরের পশ্চিম বাহারছরার জয়নাল হোসেন খানের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম খান, ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকার মোহাম্মদ নুরুন নবীর ছেলে নুরুল ইসলাম, নতুন বাহারছরা বিমান বন্দর এলাকার আলহাজ¦ মোহাম্মদ ইছহাকের ছেলে মোহাম্মদুল করিম, হাজি ইদ্রিস দেওয়ানর ছেলে মোহাম্মদ আরিফ হাসান দেওয়ানের পক্ষে মোহাম্মদ আলী আকবর চৌধুরী, হাসপাতাল সড়ক এলাকার মৃত খায়ের আহম¥দ সওদাগরের ছেলে নজরুল ইসলাম, মহেশখালীর ধলঘাট দক্ষিণ মুহুরীপাড়ার ফয়জুল করিমের ছেলে রোস্তম আলী। সবার দাবি একটাই, হয়রানী-প্রতারণার ফাঁদ থেকে মুক্তি ও টাকা ফেরত পাওয়া।
তাদের অভিযোগ, আবাসিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন দফে পিতার পক্ষ হয়ে নগদ টাকা গ্রহণ করেছেন নোমানুল হক সাজিম। এই পর্যন্ত ৮২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার বিপরীতে চুক্তিনামাও রয়েছে।
এদিকে হোটেল মোটেল জোনের অপকর্মের পরিচিত নাম মায়া-কানন কটেজ। যার আগের নাম ছিল এনএন গেস্ট হাউজ। যেখান থেকে বিভিন্ন সময় পতিতা-খদ্দেরসহ অনেককে আটকের ঘটনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে জমজমাট মাদকের আসরের। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে এখন হয়েছে আল রাজবীর রিসোর্ট। কটেজটির নাম পাল্টিয়ে চলছে প্রতারণা ও টাকা হাতানোর ফাঁদ, অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নোমানুল হক সাজিমের নিকট জানতে চাইলে বলেন, অভিযোগকারি ছালে আহমদ সামাদ ৫ গন্ডা কিনে ১২ গন্ড দখলে নিয়েছে। অন্যান্যদের অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। যে কারো অভিযোগ, কথা থাকতে পারে। কাগজপত্র নিয়ে যেখানে বসতে চায় সেখানে আমরা বসতে রাজি।

 

খবরটি সবার মাঝে শেয়ার করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2020 coxsbazartimes24
Theme Customized By CoxsTech