1. khaircox10@gmail.com : admin :
বনের জমিতে বেনজীরের ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’ - coxsbazartimes24.com
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

বনের জমিতে বেনজীরের ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪
  • ২৩ বার ভিউ

ডেস্ক নিউজ: শাল-গজারি ঘেরা বনের ভেতর বিলাসবহুল ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীরের দাপটে সরকারি বন ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচতারকা মানের এই রিসোর্ট।

এছাড়া ভয় দেখিয়ে বেনজীর আহমেদ গাজীপুরের কালীগঞ্জে কিনেছেন নামে-বেনামে শতবিঘা জমি৷ সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দের আদেশ দেয় আদালত।

অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুরের বারুইপাড়া মৌজার নলজানি এলাকায় কৌশল করে বনের ভেতরে প্রথমে ব্যক্তি মালিকানা কিছু জমি কিনেন বেনজীর আহমেদ। পরবর্তীতে আশপাশের ৬ একর ৭০ শতাংশ বনের জায়গা দখল করে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিম্মি করে দখল করে নেন প্রায় ৩ একর কৃষি জমি। জনশ্রুতি রয়েছে বিলাসবহুল রিসোর্টটির দখল বাণিজ্যে মাথা হিসেবে থেকেই ২৫ শতাংশ শেয়ার পেয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ।

ভোক্তভোগীরা জানান, রিসোর্টের মূল ফটকের সামনে বানানো পাহাড় ও ভেতরের জমি তাদের ছিল। মূল্য পরিশোধ না করেই জমিটি বেদখল করে নেওয়া হয়েছে। বেনজীর আহমেদের কারণেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব করেছে। স্থানীয় বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, তাদের জমি বেদখল করে রেখেছে রিসোর্টটি।

অন্যদিকে, রাজধানীর পূর্বাচল উপশহর ঘেঁষে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা পূর্বাচলের অতিনিকটে হওয়ায় এখানে জমির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া।  সেখানেও রয়েছে তার জমি। বেনজীর আহমেদ ও স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও নামে-বেনামে নাগরীর পাশের চান্দখোলা মৌজার বেতুয়ারটেক গ্রামে কিনেছেন কয়েক বিঘা জমি।

কালীগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সম্প্রতি বেনজীর, তার স্ত্রী ও বড় মেয়ের নামে ৬টি দললি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বেতুয়ারটেকের বাসিন্দা প্রভাত কস্তা ও বাবুল মল্লিক বলেন, ‘২০১৬ ও ২০১৭ সালে বেনজীর আহমেদ এলাকায় জমি কেনা শুরু করেন। ওই সময় এলাকায় জমির বিঘা প্রতি দাম ছিল ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকা। বেনজীর আহমেদ, স্ত্রী জীশান মির্জা এবং বড় মেয়ে ফারহীন রিশতার নামে কেনা হয় জমি।’

নাগরীর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পুইন্নারটেক গ্রামের সুশীল মণ্ডল ঢাকার তাঁতী বাজারে স্বর্ণ ব্যবসা করেন। তিনি প্রথম গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন চান্দখোলা মৌজার বেতুয়াটেক গ্রামে বেনজীর আহমেদের কাছে জমি বিক্রি করেন। তিনি জানান, ‘করোনা আসার আগের কথা। স্থানীয় জমির দালাল আব্দুল মোমেনের মাধ্যমে তার ৯ বিঘা জমি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বিক্রি করেন। তখন প্রতি বিঘা জমির দাম দিয়েছে ১৫ লাখ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই, আমার মতো আরও অনেকের কাছ থেকে প্রায় শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন। শুনছি পরবর্তীতে তিনি অনেক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।’

কালীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার এবং রাজধানীর উপশহর পূর্বাচল থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে নাগরী ইউনিয়ন চান্দখোলা মৌজার বেতুয়াটেক গ্রাম। সেই গ্রামে প্রবেশ করতেই দেখা যায় বড় বড় লাল রংয়ের সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডগুলো সিমেন্ট দিয়ে তৈরি। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে শতাধিক এমন সাইনবোর্ড দেখা যায়। একসময় সাইনবোর্ড ভুলের মধ্যে লেখা থাকলেও বর্তমানে লাল রং দিয়ে সেই লেখা ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

বেনজীর ও তার পরিবারের নামে কেনা বিভিন্ন দলিলের মধ্যে ৬টি দলিল ঘেটে দেখা গেছে, ৫১২/১৭ নম্বর দলিলে কালীগঞ্জের বান্দাখোলা গ্রামের মৃত সুধীর দাসের ছেলে সুদেব দাসের কাছ থেকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৮৩৬০/১৬ নম্বর দলিলে বেতুয়ারটেক গ্রামের মৃত নরেশ মল্লিকের ছেলে কাশীনাথ মল্লিক, পরেশ মল্লিক ও আশুতোষ মল্লিক ওরফে আশু মল্লিকের কাছ থেকে  ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকায় ১১ দশমিক ৮৭১ শতাংশ, ২০৩৮/২০১৭ নম্বর দলিলে ছাইতান গ্রামের মৃত সিলভেস্টার রোজারিওর ছেলে প্রদীপ রোজারিও এবং তার মেয়ে তারামনি এসেনের কাছ থেকে ৮ লাখ ৪২ হাজার টাকায় ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ১৯৭৩/১৭ নম্বর দলিলে পাড়ারটেক গ্রামের মৃত জন লোপেজ টছকানুর ছেলে হেনরি টছকানু, রিচার্ড টছকানু, রায়মন রোনাল্ড টছকানু ও দুই মেয়ে মিসেস রেবেকা কুইয়া ও রিনা টছকানুর (এমিলি) থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ৯০৯৮/১৭ নম্বর দলিলে পূণ্যেরটেক গ্রামের মৃত হরেন্দ্র চন্দ্র্র গোপের ছেলে আশুতোষ ঘোষ ও সুশীল ঘোষের কাছ থেকে ১১ লাখ ৮৭ হাজার টাকায় ৪০ দশমিক ৭৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই সময় এসব জমির দাম ৪-৫ গুণ বেশি থাকলেও দলিলে কম মূল্য দেখিয়ে রেজিষ্ট্রি করেন বেনজীর আহমেদ।

সাইনবোর্ডে লেখা থাকলেও বর্তমানে লাল রং দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। ছবি: রাইজিংবিডি

কালীগঞ্জর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে  জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে  উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বেনজীর আহমেদ, স্ত্রী জীশান মির্জা এবং বড় মেয়ে ফারহীন রিশতার নামে মোট ৯টি জোত খোলে জমি নামজারি জমাভাগ করা হয়। তার মধ্যে ২০৭ জোতে ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০৮ জোতে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২১৩ জোতে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ, ২১৫ জোতে ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ ২২৬ জোতে ৪১ শতাংশ, ২৫০ জোতে ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২৭৬ জোতে ১৪ শতাংশ, ২৭৭ জোতে ৩৫ শতাংশ, এবং ২৮৬ জোতে ১৫ শতাংশ জমি নামজারি জমা ভাগ হয়েছে। এছাড়া তার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে আরও ১৯টি নামজারি জমাভাগ (খারিজ) পাশাপাশি সময়ে করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘দুদক বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কেনা সম্পদের তথ্য চেয়ে ছিল। এখন পর্যন্ত আমরা বেনজীর ও তার পরিবারের নামে ৬টি দলিল পেয়েছি। পরে সেগুলো দুদক অফিসে গিয়ে দিয়ে এসেছি।’

খবরটি সবার মাঝে শেয়ার করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2020 coxsbazartimes24
Theme Customized By CoxsTech