1. khaircox10@gmail.com : admin :
রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েদের জন্য একটি অর্থপূর্ণ ভবিষ্যত - coxsbazartimes24.com
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

Ads

রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েদের জন্য একটি অর্থপূর্ণ ভবিষ্যত

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৯৩ বার ভিউ

রেজাউল করিম চৌধুরীঃ
সম্প্রতি আমি কক্সবাজারে কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখেছি। সেখানে এমন এক যুবকের সাথে আমার দেখা হয়, যিনি আমাদের দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে আগস্ট ২০১৭-এ রোহিঙ্গাদের নতুন করে আগমন শুরু হলে তাঁকে পড়াশুনা ছাড়তে হয়, বর্র্তমানে তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদানের লক্ষ্যে কয়েকশো রোহিঙ্গা যুবককে সংগঠিত করছেন।

আমি কয়েকজন তরুণ রোহিঙ্গা মেয়ের সঙ্গেও কথা বলেছি, যারা ইংরেজিতে বেশ ভাল কথা বলতে পারেন এবং রোহিঙ্গা শিবিরগুলিতে রোহিঙ্গা মেয়ে ও নারীদের মানবাধিকার রক্ষায় তাঁরা কাজ করছেন।

আমি টুইটারে বেশ সক্রিয়, প্রায় দশ থেকে পনেরজন রোহিঙ্গা সুশিক্ষিত যুবকের সাথে টুইটারে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। এরা রোহিঙ্গা শিবিরে বাস করেন এবং নিয়মিত সেখানকার নানান চিত্র-অবস্থা টুইটারে তুলে ধরেন। আমি কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবককে চিনি যারা পেশাদার আলোকচিত্রীর মতো দারুণ ছবি তুলতে পারেন। কেউ কেউ কবিতা ও গল্প লেখেন, আন্তর্জাতিক পত্রিকায় তাঁদের সেসব রচনা প্রকাশিত হয়।

ইউরোপের একটি দেশে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গা সমাজকর্মী বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু অর্থ সহায়তা পাঠাতে চান, এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করার জন্য তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি আমরা যাচাই করে দেখবো, বিশেষ করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবসন কমিশনার, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এক্ষেত্রে আমাদের অনুমোদন দিলে আমরা হয়ত বিষয়টি ভেবে দেখবো।

উল্লেখ করা যায় যে, ৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৪০% রোহিঙ্গা এখনও স্কুলে যেতে পারছে না। প্রায় ৬৯% রোহিঙ্গা পরিবারের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কমপক্ষে একটি শিশু শিক্ষা প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা যায়। ২০২০ এর একটি গবেষণা বেশ উদ্বেগজসক একটি তথ্য প্রদান করে- ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী রোহিঙ্গাদের ৮৯%-এরই শিক্ষার সুযোগ নেই।

অনেক রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতী কোনও পড়াশুনা এবং কাজের সুযোগ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে, কারণ তাদের ভনিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদারতার প্রতি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের ক্রমাগত নেতিবাচক ধারণা থাকার ফলে, আমাদের প্রতি তাদের এই শ্রদ্ধাবোধ কতদিন অব্যহত থাকবে সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। আমি উচ্চপদস্থ সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তার একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম, যিনি বলছেন- কেবলমাত্র খাবার ছাড়া রোহিঙ্গাদেরকে আর অন্যকিছু দেওয়া উচিত নয়। কক্সবাজারের স্থানীয় অনেককে চিনি, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনভাবেই কোনও কাজ করার অনীহা আছে।

দুঃখিত, আমি এসব মন-মানসিকতার সমর্থন করতে পারি না। আমার মনে হয় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কাজ করা যেতে পারে, তাঁদের জন্য শিক্ষা ও কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিৎ। আমার নিজের সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য, তাঁকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাঁদেরকে শিক্ষা দেওয়া এবং তাঁদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় সামনে কোনও ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে না। শিক্ষা আর কর্মসংস্থানই হতে পারে সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার ইত্যাদি নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে রোহিঙ্গা যুবকদেরকে দূরে রাখার উপায়। তাদেরকে বরং মানবাধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতা শিক্ষা সম্প্রসারণ, সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। আফ্রিকার আল শাবাব, এবং মধ্যপ্রাচ্যে, আল কায়দা/আইএসআই কিভাবে হতাশাগ্রস্ত যুবকদেরকে জঙ্গিবাদে নিয়োগ করে আমি সেটা জানি। আমি জানি তারা কীভাবে নাইজেরিয়া, সোমালিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। ১ জুলাই ২০১৬ তে ঢাকার হলি আর্টিজানে চালানো জঙ্গি হামলার কথা জানি। বাংলাদেশের অন্য কোথাও এ ধরনের দু:খজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না।

রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গা যুবকদেরকে ছোটখাট একটা চাকরি দিয়ে, তাঁদের কাছে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে আমি দোষের কিছু দেখি না, আমি জানি তারা অন্যদের তুলনায় কাজের বিনিময়ে কম মূল্যই নেয়। কিন্তু এই ধরনের কর্মসংস্থান যেন অবশ্যই স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। রোহিঙ্গাদের কাছে অর্থ যাওয়ার মানেই এই নয় যে এই অর্থ তাঁরা নানা ধরনের খারাপ কাজে ব্যবহার করবে, কেউ অর্থ পাচার করতে চাইলে তা করার নানা চোরাগলি আমাদের দেশে সক্রিয়ভাবেই আছে। রোহিঙ্গা যুব সম্প্রদায়কে মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সংহতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, আবার তাঁদেরও উচিত নিজেদের সম্প্রদায় থেকে মধ্যকার সকল অমঙ্গল ও অনাকাক্সিক্ষত বিষয়গুলো দূরে রাখার ক্ষেত্রে পাহারাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। আমি আমাদের নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ করবো- ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই বিষয়গুলো ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করুন।

রেজাউল করিম চৌধুরী
নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট।
৩১ জানুয়ারি ২০২১

খবরটি সবার মাঝে শেয়ার করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2020 coxsbazartimes24
Theme Customized By CoxsMultimedia